মস্তিষ্কের বিপজ্জনক অ্যানিউরিজমের সতর্ক লক্ষণ কী কী?
প্রতিদিনের চাপ, অনিয়মিত ঘুম বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে মাথাব্যথা হওয়া সাধারণ ঘটনা। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ ক্লান্তি বা স্ট্রেসজনিত সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব মাথাব্যথাই নিরীহ নয়—কিছু ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কে প্রাণঘাতী সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্রেইন অ্যানিউরিজম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালির দুর্বল অংশ ফুলে ওঠে। এটি ফেটে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (brain hemorrhage) হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। নিউরোলজিস্টদের মতে, এই ধরনের মাথাব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার মতো ধীরে ধীরে বাড়ে না; বরং হঠাৎ করে তীব্র আকার ধারণ করে এবং অনেকেই এটিকে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মাথাব্যথা হিসেবে বর্ণনা করেন।মাথাব্যথার পাশাপাশি কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন, আলো সহ্য করতে না পারা, খিঁচুনি, কথা বলতে সমস্যা হওয়া এবং শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ব্রেইন অ্যানিউরিজম ফেটে গেলে রোগীরা এমন তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন যা আগে কখনও হয়নি। এর সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বা স্নায়বিক উপসর্গ যুক্ত হলে তা জরুরি চিকিৎসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, পারিবারিক ইতিহাস, বয়স বৃদ্ধি এবং নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ মাথাব্যথাই গুরুতর নয়, তবে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাই ব্রেইন অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।