২৮ জুন শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
দীর্ঘ বিরতির পর দেশব্যাপী আবারও শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। আগামী ২৮ জুন (রোববার) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হচ্ছে।জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। অন্যদিকে ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে খাওয়ানো হবে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী জানান, সারাদেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম ও বিশেষ এলাকায় সেবা পৌঁছে দিতে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের অধিকাংশ চালান ইতোমধ্যে হাতে পৌঁছেছে এবং বাকি ক্যাপসুলও আগামী ১৯ জুনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সফল করতে হবে।এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকার পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান, যাতে কোনো শিশুই এই সেবার বাইরে না থাকে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের অধিকাংশ আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং দৃষ্টিশক্তির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রাতকানা রোগ ও স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়।বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি মোকাবিলায় ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কার্যক্রম যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। পরে ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।#আরইউএস