ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

১৮০ কিশোরীকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অমরাবতী জেলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তত ১৮০ কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন এবং শত শত আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আয়াজ ওরফে তানভীরকে স্থানীয় পুলিশ আটক করে আদালতে হাজির করলে তাকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরতওয়াদা শহরের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরে সম্পর্কের আড়ালে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের মুম্বাই ও পুনেসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এসব ভিডিও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কিছু ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ারও তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে এক স্থানীয় সংসদ সদস্যের অভিযোগের পর। তিনি পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি জানান। ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে নাবালিকা ও তরুণীদের টার্গেট করতেন। বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ে।পরে রাজ্যসভা সদস্য অনিল বোন্ডে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি যদি দ্রুত ও কঠোরভাবে তদন্ত না করা হয়, তাহলে তিনি আন্দোলনে নামবেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ডিভাইসে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারীরা। এসব ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্র জড়িত রয়েছে কিনা।সাইবার ক্রাইম ইউনিট ইতোমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি একটি সংগঠিত অপরাধ চক্র হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।এদিকে, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও থানায় গিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় যেন কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর না পড়ে এবং পুরো বিষয়টি আইন অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।আদালত অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ে তার ডিভাইস, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাবে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার।#আরএ

১৮০ কিশোরীকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার