বজ্রপাতে একদিনে ৯ প্রাণহানি
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাতে একদিনে চার জেলায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে খোলা মাঠ, হাওর ও নদী এলাকায় কাজ করার সময়।সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায়। পৃথক তিন স্থানে বজ্রাঘাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকালে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারা ফেরিঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন জেলে আবদুল মোতালিব। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে দুপুরে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। বিকেলে কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান মো. শুভ মণ্ডল নামে আরেক কৃষক। খালিয়াজুরী থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৩৮), বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দেখার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হন জমির উদ্দিন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।একই সময়ে বৈটাখালি এলাকায় দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রাঘাতে আহত হন জমির হোসেন। তাকেও হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তাদের সবাই মৃত ছিলেন। এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার আব্দুল সালাম (৬০)।স্থানীয়রা জানান, গড়দার হাওরে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মকসুদ মিয়া। অন্যদিকে, হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে নিহত হন আব্দুল সালাম। একই ঘটনায় সামরুজ মিয়া (৫০) নামে একজন আহত হয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, বাড়ির উঠানে শুকাতে দেওয়া বাদাম আনতে গিয়ে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এপ্রিল-মে মাসে কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয়, হাওর ও উঁচু স্থানে অবস্থানকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।উল্লেখ্য, আগের দিন রোববারও দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। টানা দুই দিনে বজ্রপাতে ২২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।