১৯ বছর পর সচলের পথে বগুড়ার আলিয়ারহাট ২০ শয্যা হাসপাতাল
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দীর্ঘ ১৯ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সচল করার ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকা শিবগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে এ ঘোষণায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহর কিংবা অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এটি ছিল চরম ভোগান্তির কারণ। অনেক সময় জরুরি রোগী পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠত।শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ভবনের অবকাঠামো এবং আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন। দীর্ঘদিন অচল থাকায় হাসপাতালের ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে গজিয়ে উঠেছে ঝোপঝাড়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আলিয়ারহাট হাসপাতালটি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালটি চালু করতে জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে শিবগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অচল অবস্থায় পড়ে থাকবে না।প্রতিমন্ত্রীর সফরের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি হাসপাতাল অচল থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে বহু প্রতীক্ষিত এই হাসপাতাল আবারও জনসেবার কেন্দ্রে পরিণত হবে।