ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের এই বিশেষ বস্তুকণা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত। তবে তেহরান সরাসরি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এমন কোনো সমঝোতা হয়নি এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলতে মূলত ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বোঝানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার পর এসব উপাদানের একটি অংশ ভূগর্ভে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ফিরে আসতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কেজি ২০ শতাংশ ফিসাইল উপাদান ছিল। এসব উপাদান প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ করে অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা তুলনামূলক সহজ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না এবং মাটির নিচে চাপা থাকা সব ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ উদ্ধার করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য একতরফা, অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। তেহরানের ভাষ্য, কোনো পক্ষের সঙ্গে এমন চুক্তি হয়নি যাতে ইরান তাদের পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করবে। বরং তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ কেবল প্রযুক্তিগত বা সামরিক ইস্যু নয়, এটি এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ারেও পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে, অন্যদিকে ইরান এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উন্নয়ন এবং সার্বভৌম অধিকার হিসেবে তুলে ধরছে।এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আলোচনায় অগ্রগতি হলে উত্তেজনা কমতে পারে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের জন্য এই সংকট এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হতে পারে।#আর

‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান