নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ৭ মে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ আগামী ৭ মে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন নির্ধারণ করেছে।রোববার (২৬ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।এদিন আদালতে প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সংঘটিত সহিংসতায় পরিকল্পিতভাবে নৃশংসতা চালানো হয় এবং এতে নিরীহ মানুষ নিহত হয়।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। তারা মামলার অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন।উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৭ মে দিন ধার্য করে।মামলার নথি অনুযায়ী, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট ২৮ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টন। তাদের পক্ষে আদালত স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছে।প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সমন্বয়ে সংঘটিত সহিংসতায় নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ৯ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ওই হামলা সংঘটিত হয়। নিহতদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর ধাপে ধাপে তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এ মামলার অগ্রগতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ৭ মে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশের ওপর নির্ভর করছে মামলার পরবর্তী বিচারিক ধাপ।#আর