ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তথ্য বিকৃতির প্রবণতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্য পরিবেশনের চেয়ে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তথ্যকে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা ও পক্ষপাত মিশিয়ে উপস্থাপনের প্রবণতা মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কিন্তু সেই জায়গায় নানা ধরনের বিকৃতি ও অপপ্রচারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।শনিবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, “তথ্য হচ্ছে পানির মতো, যা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই তথ্য কোন পাত্রে রাখা হচ্ছে, কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সঠিক তথ্য যাচাইয়ের প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে কমে গেছে। ফলে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া একসময় স্থবির হয়ে পড়েছিল। একটি রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া আবার চালু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে নতুনভাবে শক্তিশালী ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যম ব্যবস্থার পক্ষে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ, নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অপপ্রচার ও অপতৎপরতা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই, পেশাগত নীতি এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।তথ্যকে ‘মনের মাধুরী’ মিশিয়ে পরিবেশনের প্রবণতা থেকে সরে এসে ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ বা পরিচ্ছন্ন তথ্যচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষায়, সভ্য সমাজ গঠনে নির্ভুল ও স্বচ্ছ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যারা একসময় নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সংশোধনীর সমালোচনা করেননি, তারাই পরে নিজেদের স্বার্থে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমকে তার পেশাগত মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে হবে।অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতারা মুক্ত গণমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।

তথ্য বিকৃতির প্রবণতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী