ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাইব্যুনালে ঘুষ দাবির অভিযোগে সাইমুমের বিরুদ্ধে মিলল প্রাথমিক প্রমাণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, অডিও রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট উপাত্ত হাতে এসেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি প্রাথমিকভাবে মনে করছে, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে একটি হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি বা আইনি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ দাবি করা হয়েছিল।অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। ওই মামলা থেকে তাকে জামিন বা নিষ্কৃতি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর গত ১০ মার্চ প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। একই দিনে আইন মন্ত্রণালয় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘুষ দাবির অভিযোগসংক্রান্ত দুটি অডিও ক্লিপ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া অডিওতে সাইমুম রেজা তালুকদার এবং ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের একজন আইনজীবীর মধ্যে কথোপকথন শোনা যায় বলে জানা গেছে।অডিওগুলোতে আর্থিক লেনদেন, মামলার অগ্রগতি, প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক তদবিরের বিষয় উঠে এসেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একটি অডিওতে সরাসরি ‘এক কোটি টাকা’ দাবি এবং পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ বা কিস্তিতে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।অডিও ফাঁসের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অডিওর উৎস যাচাইয়ের কাজ শুরু করে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অডিও রেকর্ডের ভয়েস মিল, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার সময়রেখা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নয়, তবু প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছে কমিটি।সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৯ জন নিহত এবং ৪৫৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলাতেই আইনি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।এদিকে তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা হলে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কিংবা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খুলে যেতে পারে।#আর

ট্রাইব্যুনালে ঘুষ দাবির অভিযোগে সাইমুমের বিরুদ্ধে মিলল প্রাথমিক প্রমাণ