দেশে জঙ্গি তৎপরতা শূন্যে নামাতে কাজ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশে জঙ্গি অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট তথ্যকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।জাহেদ উর রহমান বলেন, “সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে, সেটা বলা যাবে না। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। এ তথ্য গোপন থাকবে। তবে সরকার যতটুকু জানিয়েছে, সেটুকু তথ্য সত্য। বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।”তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থা নিয়ে অতীতে দুই ধরনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, তখন জঙ্গি সমস্যাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন তা রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে যে মাত্রায় দেখানো হয়েছে, সেটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটি ন্যারেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে জঙ্গিরা সব দখল করে নেবে। ফলে নির্বাচন হলো কি না, তা দেখার দরকার নেই—তাদেরই ক্ষমতায় রাখতে হবে।”তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন দেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটিও চরমপন্থী অবস্থান এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।জাহেদ উর রহমান বলেন, “একটি সময়ে বাংলাদেশে মিলিট্যান্সি ছিল, এখনো আছে। আমরা সেটিকে মোকাবিলা করতে চাই। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা লক্ষ্য করেছি, এ ধরনের প্রবণতার মানুষদের মধ্যে বেশি সংগঠিত হওয়ার, প্রকাশ্যে আসার এবং খোলামেলা তৎপরতা দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই কিছু প্রভাব রয়েছে।”তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং উগ্রবাদী তৎপরতা দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “জঙ্গি ঝুঁকি ভয় পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। কিন্তু সংকটকে অস্বীকার করাও ঠিক নয়। আমরা সমস্যাকে স্বীকার করে সেটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই।”তার এ বক্তব্যের পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জঙ্গিবাদবিরোধী নীতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ‘জঙ্গি’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে।বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিবাদ নিয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টির ব্যবহারও ক্ষতিকর। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, অনলাইন মনিটরিং, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ সমানভাবে প্রয়োজন।সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনা জানানো না হলেও তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, জঙ্গি তৎপরতা মোকাবিলায় নতুন করে কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।