ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘামাচিতে পাউডার নয়, কেন সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

গ্রীষ্মকালে নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই ঘামাচির সমস্যা দেখা দেয়। চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার কারণে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের পাউডার ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ঘামাচি প্রতিরোধ বা নিরাময়ে এসব পাউডার কার্যকর নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।গরমের সময়ে অতিরিক্ত ঘাম, হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা প্রচণ্ড রোদে চলাফেরার কারণে ঘামাচির প্রকোপ বেড়ে যায়। সাময়িক আরামের আশায় ব্যবহৃত পাউডার কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদে উপকার করে না বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘামাচি মূলত তিন ধরনের—মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা, মিলিয়ারিয়া রুব্রা এবং মিলিয়ারিয়া প্রোফান্ডা। ঘামগ্রন্থি ও ঘাম নিঃসরণের নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে এ সমস্যা তৈরি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট ফোসকার মতো দানা দেখা যায়, যাকে মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা বলা হয়। পরবর্তীতে তা লালচে র‌্যাশে রূপ নিয়ে চুলকানি বাড়ায়, যা মিলিয়ারিয়া রুব্রা নামে পরিচিত। সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমলে সেটিকে মিলিয়ারিয়া প্রোফান্ডা বলা হয়।চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কৌশিক লাহিড়ীর মতে, ঘামাচি হলে পাউডার ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, এসব পাউডার ঘামগ্রন্থির ছিদ্র আরও বন্ধ করে দিয়ে সমস্যাকে জটিল করে তুলতে পারে। এর পরিবর্তে বারবার গোসল করা অধিক উপকারী।তিনি আরও বলেন, ঘামাচির উপসর্গ কমাতে ল্যাক্টোক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সংক্রমণ বা সমস্যা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম কিংবা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পাউডারের পাশাপাশি অ্যান্টিসেপটিক সাবান বা লোশন একসঙ্গে ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত কোনো ক্রিম ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তাই ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মচিকিৎসার পরিবর্তে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শরীর ঠান্ডা রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘামাচিতে পাউডার নয়, কেন সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা