কানের ছোট গাঁটই হতে পারে বড় সংকেত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
কানের ভেতরে বা পাশে ছোট একটি গাঁট অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কেউ ভাবেন এটি নিজে থেকেই সেরে যাবে, কেউ আবার ব্যথা না থাকায় গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট পরিবর্তনই কখনও কখনও বড় রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। কানের টিউমার সাধারণত নিরীহ হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা জটিলতা তৈরি করতে পারে, এমনকি দেরি হলে ক্যানসারের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, কানের ভেতর বা বাইরের অংশে অস্বাভাবিক কোষের অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে যে গাঁট বা মাংসপিণ্ড তৈরি হয়, সেটিই কানের টিউমার। এটি বাইরের কান, মধ্যকান কিংবা ভেতরের কান—যেকোনো অংশেই হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব টিউমার ক্যানসারজনিত নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এগুলো ধীরে ধীরে গুরুতর রূপ নিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কানে দেখা দেওয়া সব গাঁটই টিউমার নয়। অনেক সময় এটি সিস্ট হতে পারে, যা তরলভর্তি ছোট থলি হিসেবে তৈরি হয় এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়। কিন্তু টিউমার হলো শক্ত টিস্যু বৃদ্ধি, যা নিরীহ বা ক্ষতিকর—দুই ধরনেরই হতে পারে। তাই শুধুমাত্র দেখে বা অনুভব করে এর প্রকৃতি বোঝা সম্ভব নয়।চিকিৎসকদের মতে, কানের টিউমারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে, যেগুলো কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে কানে বা কানের আশপাশে গাঁট অনুভব হওয়া, হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে ব্যথা বা অস্বস্তি, কানে তরল বা রক্ত বের হওয়া এবং বারবার মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর সমস্যা। এছাড়া কানে বাজা বা ত্বকের রঙ পরিবর্তনের মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরে কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে টিউমার তৈরি হয়। যখন নতুন কোষ অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত তৈরি হয় অথবা পুরোনো কোষ ঠিকভাবে ধ্বংস হয় না, তখন টিস্যুর একটি অতিরিক্ত অংশ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে গাঁটের আকার ধারণ করে।কানের টিউমার হওয়ার পেছনে কিছু ঝুঁকির কারণও রয়েছে। দীর্ঘদিন কানের সংক্রমণ, কানে আঘাত বা ছিদ্র, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শ, ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপান এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণও এর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এটি দেখা দিতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, সব টিউমারের জন্য একই ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। টিউমারের ধরন, আকার এবং অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। জটিল বা ক্যানসারজনিত টিউমারের ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসাও প্রয়োগ করা হয়।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কানের টিউমার সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাযোগ্য। কিন্তু অবহেলা করলে এটি শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে, বারবার সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা দেখা দেয়।চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, কানে কোনো অস্বাভাবিক গাঁট, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, শ্রবণশক্তির পরিবর্তন বা তরল নির্গমন দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের মত হলো, কানের ছোট পরিবর্তনকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সময়মতো সতর্ক না হলে এটি ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।#আর