ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রতিদিন ১০০ হার্ট অ্যাটাকের শহর করাচি, জনস্বাস্থ্যে নতুন সতর্কসংকেত

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচি-তে প্রতিদিন অন্তত ১০০টি হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত নগরায়ন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে শহরটি গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচির বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক হৃদরোগী ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু চিকিৎসা সংকট নয়, বরং একটি বড় জনস্বাস্থ্য সতর্কবার্তা।সম্প্রতি তাব্বা হার্ট ইনস্টিটিউট-এ অনুষ্ঠিত ‘ক্লিনিক্যাল ইনোভেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক কন্টিনিউটি’ শীর্ষক বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় কার্ডিওলজিস্টরা বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব না দিলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।পাকিস্তান কার্ডিয়াক সোসাইটি-এর করাচি শাখার সমন্বয়ক ডা. আকরাম সুলতান বলেন, হৃদরোগের বোঝা কমাতে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। ঝুঁকির কারণ কমানো, আগাম শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, মানুষ যখন হার্ট অ্যাটাকের পর হাসপাতালে আসে, তখন অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, করাচিতে হৃদরোগ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্টভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ট্রান্স ফ্যাটের ব্যবহার, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব, দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, ধূমপান, বায়ুদূষণ, অনিদ্রা এবং উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ।এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নগরজীবনের ব্যস্ততা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগ বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।বৈঠকে ‘হার্ট বিট’ নামে একটি ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল বুলেটিন চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা গবেষণা, নির্দেশনা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে তথ্য বিনিময় করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ না করলে কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি তৈরি সম্ভব নয়।পিসিএস করাচির সাধারণ সম্পাদক ডা. রিফাত সুলতানা ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি স্ক্রিনিং, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অনেক মানুষ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বাম হাতে ব্যথা বা অস্বস্তির মতো প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।করাচির মতো বড় শহরে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক হার্ট অ্যাটাক রোগী আসায় আইসিইউ বেড, জরুরি সেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর চাপ বাড়ছে।চিকিৎসকদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এজন্য তামাকজাত পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রসার, হাঁটার উপযোগী নগর পরিকল্পনা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গণসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন।তারা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটে না—বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অবহেলা ও ঝুঁকির ফল। তাই প্রতিদিন ১০০ হার্ট অ্যাটাকের শহর হিসেবে করাচির এই পরিসংখ্যান পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও বড় সতর্কবার্তা।#আর

প্রতিদিন ১০০ হার্ট অ্যাটাকের শহর করাচি, জনস্বাস্থ্যে নতুন সতর্কসংকেত