আইএমএফ ঋণের কিস্তি স্থগিত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: দূতাবাস
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করা হয়েছে—এমন তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংস্কার কার্যক্রমে ব্যর্থতার কারণে কিস্তি স্থগিতের বিষয়ে আইএমএফ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং এ সংক্রান্ত যেসব খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আইএমএফের সাম্প্রতিক বৈঠকে ঋণের কিস্তি স্থগিত বা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। বরং ওই বৈঠকগুলোতে চলমান সংস্কার, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সমস্যা এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।দূতাবাসের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার নয়, বরং শুক্রবার আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠকে অংশ নেয়। তবে কোনো বৈঠকেই ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলো হয়েছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের অংশ হিসেবে। এতে সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তার দলের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক হয়।বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকার পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা তুলে ধরেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতৈক্য থাকলেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থেকে যায়।দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব মতপার্থক্য কোনো সিদ্ধান্তহীনতা বা বিরোধ নয়, বরং আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।আইএমএফের পক্ষ থেকেও বৈঠকে বাংলাদেশকে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ব্যাংক খাত ও কিছু কাঠামোগত সংস্কার ইস্যু এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কিস্তি স্থগিত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে দূতাবাসের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্টতা এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।বর্তমানে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।