৯ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে অ্যাথলেটিকো
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে নাটকীয় ম্যাচে বিদায় নিয়েছে বার্সেলোনা। ভিএআর সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ লাল কার্ডের প্রভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে কাতালান জায়ান্টদের। অন্যদিকে দীর্ঘ ৯ বছর পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে জয় পায় বার্সেলোনা। তবে প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্বাগতিক অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বার্সেলোনা। মাত্র চার মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফেরান তোরেসের পাস থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণ করে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নতুন করে আশা জাগে বার্সা শিবিরে।২৪ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দানি ওলমোর পাস থেকে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান তিনি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন তখন ২-২ সমতায় ফিরে আসে, ফলে ম্যাচে নাটকীয়তা আরও বাড়ে।তবে সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বার্সেলোনা। ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে যায় অ্যাথলেটিকো। মার্কোস লরেন্তের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন আদেমোলা লুকমান। এই গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা একাধিক আক্রমণ সাজালেও সফলতা পায়নি। ৫৫ মিনিটে ফেরান তোরেসের একটি গোল ভিএআর রিভিউয়ের পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর একাধিক সুযোগ নষ্ট হলে চাপ আরও বাড়ে।পরিস্থিতি বদলাতে মাঠে নামানো হয় অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানডভস্কি এবং মার্কাস র্যাশফোর্ডকে। তবে তাদের উপস্থিতিতে আক্রমণে গতি এলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা।ম্যাচের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ৭৮ মিনিটে। বার্সেলোনা ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া আলেক্সান্ডার সরলথকে ফাউল করলে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে। ফলে শেষ ১০ মিনিটের বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় বার্সেলোনা, যা তাদের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেয়।শেষ মুহূর্তে লেভানডভস্কির হেড রুখে দেন অ্যাথলেটিকোর গোলরক্ষক জুয়ান মুসো। এরপর আর কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বার্সা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে হাজার হাজার দর্শক।এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছাল অ্যাথলেটিকো। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালেও তারা বার্সেলোনাকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।অন্যদিকে হ্যান্সি ফ্লিকের দল বার্সেলোনা ভিএআর সিদ্ধান্ত, লাল কার্ড বিতর্ক এবং সুযোগ নষ্টের হতাশায় শেষ আটেই থেমে গেল ইউরোপীয় মঞ্চে তাদের অভিযান।#আরএ