ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ২ নম্বর চাড়োল ইউনিয়নের দোগাছি বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ও ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কিছু ব্যবসায়ী প্রতি লিটারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন, ফলে সাধারণ ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোগাছি বাজারের কামরুল ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই জ্বালানি বিক্রি করছে। স্থানীয়দের দাবি, পেট্রোল বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠানটির এসব অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি লিটারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয় মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী জুলফিকার আলী ও বজলুর রহমান মানিক জানান, তারা সম্প্রতি কামরুল ট্রেডার্স থেকে পেট্রোল কিনতে গিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম পরিশোধ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিচিত ক্রেতা হওয়ায় কিছু টাকা ফেরত পেলেও অন্যান্য ক্রেতাদের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খোরশেদ আলী বলেন, তারা যেখান থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করেন, সেখানেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তবে সরবরাহকারীরা অতিরিক্ত মূল্যের কোনো রশিদ দিচ্ছেন না। এ কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়নি।এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, পেট্রোলের কোনো সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ভোক্তারা বাজার তদারকি জোরদার এবং জ্বালানি বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।