নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার বাকরইল এলাকায় দিবর-শিহাড়া-নির্মইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এদিকে পুরোনো ভূমি অফিস ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্র ও সরকারি কাগজপত্র ওই ভবনে সংরক্ষিত থাকায় ভবনটি ধসে পড়লে এসব নথি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানে কার্যক্রম স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বর্তমানে মাত্র একজন মিস্ত্রি দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তারা জানান। এভাবে কাজ চলতে থাকলে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, এ ধরনের নির্মাণকাজের বিষয়ে জেলা পর্যায় থেকে তদারকি করা হয়। তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে করতে পারেন এবং তিনি পত্নীতলায় দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন—এ মর্মে আবেদনও করেছেন। তবে তার বক্তব্যে নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি।পরে বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ এলজিইডির জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্পটির ঠিকাদারি নিয়ে পরিবর্তন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাজটি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে নতুন ঠিকাদারকে কাজটি দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ২৮ দিনের রিমাইন্ডার চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান ঠিকাদার আগের ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি গ্রহণ করেছেন এবং তার সঙ্গে নওগাঁ সদর উপজেলার মুক্তির মোড় এলাকার রানা নামে এক ব্যক্তি পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি ও কাজ হস্তান্তরের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় নির্মাণসামগ্রী ও আশপাশের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন ও এর আশপাশে বহিরাগতদের চলাচলের কারণে বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা দাবি করেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র সংরক্ষিত থাকা একটি ভূমি অফিসের পুরোনো ভবন যদি হঠাৎ ধসে পড়ে এবং এতে কোনো নথি বা সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? তাই জননিরাপত্তা ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে নতুন ভবনে ভূমি অফিসের কার্যক্রম স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।