ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চার মাসের শিশুর মাথায় ব্রেন টিউমার, মেয়েকে বাঁচাতে অটোরিকশাও বিক্রি বাবার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক অসহায় পরিবারের চার মাস বয়সী শিশুকন্যা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। পৃথিবীর আলো ঠিকমতো দেখার আগেই তার মস্তিষ্কে ধরা পড়েছে ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটিকে বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু সেই অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিকুল ইসলাম ও লাখি আক্তার দম্পতির ঘর আলো করে মাত্র চার মাস আগে জন্ম নেয় তাদের তৃতীয় কন্যাসন্তান। জন্মের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জন্মের পর থেকেই শিশুটির শরীরে নানা জটিল সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়ানোর পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন, শিশুটির মস্তিষ্কে ব্রেন টিউমার রয়েছে।যে বয়সে একটি শিশুর মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই অসহনীয় যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছে সে। সন্তানের এমন অবস্থা দেখে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছেন তার বাবা-মা।জীবিকার তাগিদে রবিকুল ইসলাম স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সামান্য আয়ে কোনোমতে চলছিল পাঁচ সদস্যের পরিবার।মেয়ের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর থেকে চিকিৎসার জন্য একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন তারা। প্রথমে সঞ্চয়ের টাকা, এরপর আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চিকিৎসা চালিয়েছেন। সবশেষে মেয়ের জীবন বাঁচানোর আশায় নিজের আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও বিক্রি করে দেন রবিকুল।এ পর্যন্ত শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এত টাকা খরচের পরও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এখনও করানো সম্ভব হয়নি। অটোরিকশা বিক্রির পর রবিকুলের আর কোনো স্থায়ী উপার্জনের পথ নেই। বর্তমানে দিনমজুরির কাজ পেলে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করেন।এর মধ্যেই নতুন বিপদ। গত তিন মাস ধরে তিনি নিজেও পেটের জটিল রোগে ভুগছেন। নিজের চিকিৎসা বন্ধ রেখে মেয়ের চিকিৎসাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।কান্নাজড়িত কণ্ঠে রবিকুল ইসলাম বলেন, "আমার মেয়ের বয়স মাত্র চার মাস। তার মাথায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছে। অনেক হাসপাতালে গেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। যা টাকা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের অটোগাড়িটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন চিকিৎসা আছে, কিন্তু টাকা নেই। সরকারের কাছে এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার মেয়েটাকে বাঁচান।" শিশুটির মা লাখি আক্তার বলেন, "একজন মা হিসেবে সন্তানের এই কষ্ট দেখা খুব কঠিন। ডাক্তার দ্রুত অপারেশনের কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের হাতে আর কিছুই নেই। মেয়েকে বাঁচানোর জন্য সবার সহযোগিতা চাই।" চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটিকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করাতে না পারলে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন।একটি অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। অথচ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন কিংবা সরকারি সহায়তা পেলে শিশুটির চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। চার মাস বয়সী এই শিশুটি এখন হাসপাতালের বিছানায় নতুন জীবনের অপেক্ষায়। তার ছোট্ট জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ে সমাজের সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে নতুন আশার আলো। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো একটি পরিবার তাদের সন্তানের হাসি ফিরে পাবে, আর একটি নিষ্পাপ প্রাণ ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ।

চার মাসের শিশুর মাথায় ব্রেন টিউমার, মেয়েকে বাঁচাতে অটোরিকশাও বিক্রি বাবার