যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেস, আইনসভা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) এবং CAIR Action এই তথ্য প্রকাশ করে।
সংগঠনটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় জয় পেয়েছেন। আরও ১৫ জন প্রার্থী নিজ নিজ আসনে এগিয়ে রয়েছেন এবং ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি অবস্থায় রয়েছে।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটরের জয়। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন আদম হামাওয়ে। তিনি নিউ জার্সি থেকে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের।
এ ছাড়া মিনেসোটা থেকে ইলহান ওমর, মিশিগান থেকে রাশিদা তালাইব, ইন্ডিয়ানা থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লতিফা সাইমন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
শুধু কংগ্রেস নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় রাজনীতিতেও মুসলিম প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। জর্জিয়া, ইলিনয়, মিনেসোটা, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মুসলিম প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন।
CAIR-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৮২ জন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। অর্থাৎ আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় মুসলিম প্রার্থীদের বিজয়ের সংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রাথমিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১৬৮ জন মুসলিম প্রার্থীর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯৭ জন জয়ী হয়েছেন, ৫০ জন পরাজিত হয়েছেন এবং ২১ জনের ফলাফল প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
CAIR এবং CAIR Action আশা করছে, সব আসনের ভোট গণনা শেষ হলে নির্বাচিত মুসলিম প্রতিনিধির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের এই সাফল্য দেশটির বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বিশেষ করে প্রথম মুসলিম সিনেটরের বিজয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিম প্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি, নাগরিক অধিকার, বৈদেশিক সম্পর্ক ও সামাজিক নীতিনির্ধারণের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে নির্বাচনের এসব ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব আসনের ভোট গণনা ও সরকারি প্রত্যয়ন শেষ হলে বিজয়ী প্রার্থীদের চূড়ান্ত সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকছে।
