তাড়াশে কমছে ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’ কাক, বাড়ছে পরিবেশের বিপর্যয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
05 Nov 2026, 16:49 · এস,এম রুহুল তাড়াশী, — তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে পরিবেশের অন্যতম বন্ধু পাখি 'কাক'। এক সময় উপজেলার আনাচে-কানাচে, হাট-বাজারে দলবেঁধে কাকের দেখা মিললেও এখন আর আগের মতো তাদের চেনা ডাক শোনা যায় না। প্রকৃতির এই নীরব ‘ঝাড়ুদার’ পাখিটি হারিয়ে যাওয়ার ফলে তাড়াশের স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের মতে, মানুষের তৈরি নানা প্রতিকূলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তাড়াশ থেকে দ্রুত বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে কাক।তাড়াশ এলাকায় কাক কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ সামনে এসেছে। এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় গাছ (যেমন: শিমুল, বট, পাকুড়) কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে কাক তাদের বাসা বাঁধার নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না।আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে। পাশাপাশি মরা পশুপাখি এখন আর যেখানে-সেখানে না ফেলে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে। এতে কাকের স্বাভাবিক খাবারের উৎস অনেকটাই কমে গেছে।ফসলি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে কাকের প্রধান খাদ্য (পোকামাকড় ও ছোট ইঁদুর) বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। ওই বিষাক্ত খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে কাক।অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং প্রকৃতির অস্বাভাবিক আচরণ পাখিদের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। কাক পরিবেশের পচনশীল বর্জ্য, মরা ইঁদুর বা আবর্জনা খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। কাক কমে যাওয়ায় বর্জ্য পচে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে।কাক ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের পরোক্ষ উপকার করে। কাক কমে যাওয়ায় তাড়াশের ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "কাককে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হয়। এরা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাড়াশে কাকের সংখ্যা কমে যাওয়া মূলত একটি বড় বিপদের সংকেত। এখনই যদি আমরা পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরি না করি এবং ফসলে কীটনাশকের ব্যবহার না কমাই, তবে এই অঞ্চলে পরিবেশের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।"পরিবেশবিদদের মতে, তাড়াশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে কাকসহ সব ধরনের দেশীয় পাখি রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।