প্রাথমিক শিক্ষায় ৪১ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচি অনুমোদন, পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

05 Nov 2026, 13:21 · নিজস্ব প্রতিবেদক — উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বা পিইডিপি-৫ অনুমোদন করেছে সরকার। বুধবার, ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় কর্মসূচিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ১৫ হাজার ৬৪১টি নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, শিক্ষকদের ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে সরকারি তহবিলের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোসহ উন্নয়ন সহযোগীদের যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও অর্থায়ন চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, কর্মসূচির ব্যয় কাঠামো নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে ৪৩৬ কোটি টাকার বেশি পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং নিয়মিত পরিচালন ব্যয় রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ২০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল স্থাপন এবং শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পোশাক, ব্যাগ, জুতা ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকল্প অনুমোদনের অর্থ সব শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ বা সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন হওয়া নয়। অর্থায়ন চূড়ান্ত করা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপকার নিশ্চিত করাই হবে কর্মসূচিটির বড় পরীক্ষা।