নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ ভ্যান থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে নির্জন সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির টাকা নিয়ে পিকআপ ভ্যানে করে বগুড়া থেকে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা (২৫) ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫)। পথে পিকআপটি বিকল হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চালক সোহেলকে মারধর এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে তাদের কাছ থেকে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ডিবি পুলিশ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪)–কে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাদেবপুরের ভাড়া বাসা থেকে ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিন (২৫)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্না জড়িত ছিলেন এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিন প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
