গুণী শিল্পীর মুখে এমন ভাষা? আদালতে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির আচরণে ঝড়

05 Nov 2026, 23:59 · ডেস্ক রিপোর্ট — উন্নয়নে বাংলাদেশ

আলোচনা-সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির। কখনো ব্যক্তিগত জীবন, কখনো মামলা, আবার কখনো প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। এবার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অশোভন ভাষা ব্যবহার এবং এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হন পরীমনি। শুনানি শেষে ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে পৌঁছান পরীমনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একাধিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। আদালতে তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে জড়ো হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে এজলাসে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পরে ওই সাংবাদিক ফোনটি ফেরত নেন।

জামিন পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তিনি অশোভন ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে ঘটনার আরেকটি দিকও রয়েছে। পরীমনি অভিযোগ করেছেন, আদালত প্রাঙ্গণে একজন ব্যক্তি তাঁর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করার কথাও বলেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি শুধু কথার বাগ্‌বিতণ্ডায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।

জাগো নিউজের দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে আসা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথায় আঘাত লাগে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পরীমনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবন ও নানা বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

একজন শিল্পীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে জনসমক্ষে কথা বলার সময় সংযম ও শালীনতা বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন অনেক দর্শক।

আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাংবাদিকেরা যখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁদের প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার যেমন একজন শিল্পীর রয়েছে, তেমনি সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষাও জরুরি।

কোনো প্রশ্নে বিরক্ত হলে প্রতিবাদ জানানো যায়, বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো যায় কিংবা প্রয়োজন হলে আইনগত প্রতিকারও চাওয়া যায়। কিন্তু গালিগালাজ, মোবাইল কেড়ে নেওয়া বা শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ সত্য হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য আচরণ হতে পারে না।

একইভাবে পরীমনির অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। একজন নারী শিল্পীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার অধিকারকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আদালতের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির ভাষা ও আচরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর কাছ থেকে প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার কতটা প্রত্যাশিত?

অন্যদিকে তাঁর ভক্তদের একটি অংশ পরিস্থিতিজনিত ক্ষোভের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে একজন মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারেন।

আদালতের ঘটনার পর ফেসবুকে পরীমনির দেওয়া একটি পোস্টও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

একজন শিল্পী তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেন। সেই পরিচিতির কারণে তাঁর প্রকাশ্য আচরণও মানুষের নজরে আসে।

পরীমনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর নিজের করা অভিযোগ—দুটিই নিরপেক্ষভাবে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।

তবে এ ঘটনা নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—মতবিরোধ কিংবা বিরক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রেও কি একজন জনপ্রিয় শিল্পীর ভাষা আরও সংযত হওয়া উচিত নয়?

সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং একজন শিল্পীর মর্যাদা—সবকিছু বিবেচনায় রেখেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ সমাধান প্রত্যাশিত।